ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী

সাবিনা ইয়াসমিন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন মহান মুক্তিযুদ্ধ নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থান ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষ্যে আজ দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। আগামীকাল ১ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন প্রাচ্যের অক্সফোর্ডখ্যাত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হচ্ছে। এটি অবশ্যই আমাদের জন্য গৌরবের এ উপলক্ষ্যে আমি সম্মানিত শিক্ষক শিক্ষার্থী অভিভাবক সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীসহ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন ১৯২১ সাল থেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দেশে উচ্চশিক্ষার প্রসার জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন মহান মুক্তিযুদ্ধ নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ বাংলাদেশের সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে হাজারো সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থীকে জীবন দিতে হয়েছে।

অনেক ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে আমরা দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছি। এবার গণতন্ত্র সুসংহত করার পালা। এক্ষেত্রেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অত্যন্ত সময়োপযোগী হয়েছে বলে আমি মনে করি। সূত্র বাসস

প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রচলিত শিক্ষা কারিকুলামকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার কোনো বিকল্প নেই। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়কে নতুন কর্মপন্থা নির্ধারণ করা এখন সময়ের দাবি। প্রধানমন্ত্রী বলেন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা জোরদারের বিষয়টি শুধু পরিকল্পনা কিংবা পদক্ষেপ গ্রহণে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। তিনি আরো বলেন মেধা ও একাডেমিক যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার সংস্কৃতি জোরদার করতে হবে। বিশ্বের স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনের দিকে আরো বেশি মনোযোগী হওয়া জরুরি।